1. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকরীসাদা চালের তুলনায় কালো চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) বেশ কম (প্রায় ৪০–৫৫)। ফলে এই চালের ভাত খাওয়ার পর রক্তে শর্করার বা সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। এটি ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
2. শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎসকালো চালের গাঢ় বেগুনি-কালো রঙের মূল কারণ হলো এতে থাকা প্রচুর পরিমাণের অ্যান্থোসায়ানিন (Anthocyanin) নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (যা ব্লুবেরি বা কালো আঙুরে পাওয়া যায়)। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি-রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
3. ওজন কমাতে ও হজমশক্তি বাড়াতে সহায়কএই চালটি অতিরিক্ত পালিশ করা হয় না বলে এর ভেতরের ভুসি ও ফাইবার (আঁশ) অক্ষত থাকে।দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে: উচ্চ ফাইবার ও জটিল কার্বোহাইড্রেটের কারণে এটি ধীরে ধীরে হজম হয়, যা ঘন ঘন খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে: পর্যাপ্ত ফাইবার অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং নিয়মিত মলত্যাগে সাহায্য করে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
4. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়কালো চালে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ফাইটোকেমিক্যাল উপাদান শরীরে 'খারাপ' কোলেস্টেরল (LDL) এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এটি রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং ধমনিতে চর্বি জমতে বাধা দেয়, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে যায়।
5. লিভার ডিটক্সিফিকেশন ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণলিভারের সুরক্ষা: এতে থাকা পুষ্টি উপাদান লিভার বা যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিতে (Detoxification) সাহায্য করে।অ্যানিমিয়া প্রতিরোধ: সাধারণ সাদা চালের চেয়ে কালো চালে প্রায় ১০ গুণ বেশি আয়রন থাকে, যা শরীরে লোহিত রক্তকণিকা তৈরি করে রক্তশূন্যতা দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।